প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় শক্তি। এই মহামারির সময় ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবাসীরা ২ লাখ ১০ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন। এই অর্থ বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ৮ শতাংশ। এই অর্থ আমদানি পণ্যের মূল্য পরিশোধ, অবকাঠামো নির্মাণসহ সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এককভাবে বড় ভূমিকা রাখছে, যার সামষ্টিক প্রভাব আছে স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য খাতে। এ ছাড়া পরিবারে পাঠানো অর্থের মাধ্যমে অন্যান্য ব্যয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করা হয়।
বাংলাদেশ বিশ্বে ষষ্ঠ বৃহত্তম অভিবাসী শ্রমিকের দেশ। অভিবাসী শ্রমিকের মধ্যে নারী শ্রমিকও আছেন। একটি হিসাব বলছে, এঁদের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। ফরিদপুর জেলার চর ভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ও গাজীরটেক ইউনিয়নের ৯৫ শতাংশ পরিবার এবং চর ভদ্রাসন ইউনিয়নের ২৫ শতাংশ পরিবার থেকে নারী অভিবাসী শ্রমিকেরা সৌদি আরব, জর্ডান ও লেবাননে কাজ করেন। এসব নারীর পরিবার নিয়ে জরিপ করেছে বেসরকারি সংস্থা কারিতাস ও অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন কর্মসূচি।
জরিপ ফলাফলে দেখা গেছে, অভিবাসী শ্রমিকদের পরিবারের ৬১ শতাংশ শিশু অসুস্থ হলে সেবা পায়, অন্য পরিবারের ক্ষেত্রে তা ৩৯ শতাংশ। এর অর্থ হচ্ছে প্রবাসী আয় চিকিৎসার জন্য খরচ করা হয়। নারী অভিবাসীদের পাঠানো টাকার ২০ শতাংশ খরচ করা হয় খাদ্যের পেছনে। গবেষকেরা বলছেন, অভিবাসী শ্রমিকদের পরিবারে অন্য পরিবারের তুলনায় পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার বেশি কেনা হয়। তবে গবেষকেরা এ–ও বলছেন, প্রবাসী আয় প্রয়োজনের সময় যে স্বাস্থ্যসেবায় খরচ করা হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।